ইউরোপে পড়ালেখা, চাকুরী এবং সেটেলমেন্টে

Hello, my name is Joynal, and I'm a software engineer living and working in the Netherlands. With 10 years of experience under my belt, I have a passion for solving complex problems and creating innovative solutions.
When I'm not working, I like to unwind by spending time with my family, reading, and exploring new destinations. I find that travel helps broaden my perspective and provides inspiration for my work.
Thanks for taking the time to read a little about me. I hope you find my blog informative and helpful. If you have any questions or feedback, don't hesitate to reach out!
নেদারল্যান্ড, জার্মানি বা ইউরোপে স্টুডেন্ট ভিসায় এসে সেটেলমেন্টের ব্যাপারে অনেকেই আমাকে বিভিন্ন সময়ে অনেক প্রশ্ন করে থাকেন। একই প্রশ্নের উত্তর আমাকে বারবার দেওয়া লাগে তাই পোস্ট আকারে লিখে ফেললাম। আমি স্টুডেন্ট না, প্রফেশনাল হিসেবে কাজ করছি। তাই এখানে ইউনিভার্সিটিতে হায়ার এডুকেশন এর জন্য এপ্লাই কিভাবে করতে হবে সেই প্রসেস আমার জানা নাই। এটা আপনি গুগলে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন। এর চেয়ে বরং আমি এখানের লিভিং এক্সপেন্স, কাজের সুযোগ এবং সুবিধা-অসুবিধা এবং ভবিষ্যৎ সেটেলমেন্টের সম্ভাবনা তুলে ধরব।
সুবিধা বর্ণনা করার পূর্বে আগে রিস্ক ফ্যাক্টর নিয়ে আলোচনা করতে চাই। এইখানে একটা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়া, নতুন একটা দেশে আসা এবং সেটেল হওয়ার জন্য ইউনিভার্সিটি ভেদে ১০ থেকে ২০ লাখ বা আরও বেশি টাকা লাগে। বিভিন্ন সময় আমি এখানে অনেক স্টুডেন্টদের সাথে মিট করেছি, যার বেশিরভাগ অংশই হচ্ছে মিডেল ক্লাস ফ্যামিলি। একটা মিডেল ক্লাস ফ্যামিলির কাছে ১৫-২০ লাখ টাকা অনেক টাকা, এখানে পড়লেই যে আপনি সেটেল হতে পারবেন সেটার কোন গ্যারান্টি নাই। মোটামুটি ৮০ থেকে ৯০ ভাগ স্টুডেন্ট এখানে সেটেল হতে পারে না, তারা পর্তুগাল বা অন্যান্য দেশে মুভ করে।
এর অন্যতম একটা বড় কারণ গুলা হচ্ছে ভাষা এবং দক্ষতা। আমাদের দেশ থেকে আসা স্টুডেন্ট গুলার শুধুমাত্র পড়াশোনা দিকেই ফোকাস দেওয়া সম্ভব না, এইখানে লিভিং এক্সপেন্স অনেক বেশি, সেটার যোগান দেওয়ার জন্য সবারই কিছু না কিছু কাজ করতে হয়। পার্টটাইম বা ফুলটাইম জব শেষে, নিজের জন্য রান্না বান্না বাসার সব কাজ করা, সবকিছু শেষে পড়াশোনা বা স্কিলের দিকে ফোকাস দেওয়ার জন্য হাতে অনেক কম সময় থাকে এবং অনেক কঠিন হয়ে যায়। এইখানের ইউনিভার্সিটিতে থেকে পাস করে কোন লাভ হবে না যদি না আপনার কোন দক্ষতা থাকে। আবার শুধু দক্ষতা থাকলেই লাভ হবে না যদি না লোকাল ভাষা না জানেন। আইটি সেক্টর বাদে মোটামুটি অন্যান্য সবগুলো সেক্টরে কাজ করার জন্য আপনার লোকাল ভাষা জানা অত্যাবশ্য। কারণ আইটি সেক্টর বাদে অন্যান্য সেক্টরগুলোতে ইংরেজি ভাষার ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে।
সবশেষে আপনি যদি কোন চাকরি ম্যানেজ করতে পারেন, আপনার কোম্পানির ভিসা স্পন্সরশিপ করার জন্য সামর্থ্য(লাইসেন্স বা সরকারিভাবে অনুমতি) থাকতে হবে। আইটি কোম্পানি বাদে খুব অল্প সংখ্যক কোম্পানি ভিসা স্পন্সরশিপ করে থাকে। লোকাল কোম্পানিগুলো ভিসা স্পন্সরশিপের ঝামেলায় যেতে চায় না, কারণ এতে সরকারের কাছে অনেক বাইন্ডিং থাকে। ওদের ট্যাক্স এবং পেরোল রিলেটেড অনেক পেপার ওয়ার্ক করতে হয়, এবং বাৎসরিকভাবে সরকারকে ভালো এমাউন্ট পে করতে হয়। ছোট কোম্পানিগুলা এই প্রসেসটাকে ব্যয়বহুল মনে করে, তাই তারা যাদেরকে ভিসা স্পন্সরশিপ করা লাগবে না ঐরকম কাউকে খুঁজে। মোদ্দা কথা হলো আপনি শুধু কাজ পেলেই হবে না আপনার কোম্পানির সামর্থ্য থাকতে হবে ভিসা স্পন্সরশিপ করার।
বৈধতা ছাড়া কোন দেশের মধ্যে অবস্থান করা বেআইনি। বেআইনিভাবে অবস্থান করে আপনি কোন সোসিয়াল বেনিফিট পাবেন না, ডক্টরের কাছে যেতে পারবেন না, কোন সমস্যা হলে পুলিশ কমপ্লেইন করতে পারবেন না। এবং সব সময় রিস্ক থাকে যেকোনো সময় ধরে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার।
এইখানে লিভিং এক্সপেন্স অনেক ব্যয়বহুল। থাকা-খাওয়া, যাতায়াত ভাড়া, হেলথ ইন্সুরেন্স এবং আনুষাঙ্গিক মিলিয়ে মাসে কমপক্ষে ১০০০ থেকে ১৫০০ ইউরো পর্যন্ত খরচ হতে পারে। সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং হচ্ছে এখানে থাকার জায়গা খুঁজে বের করা। মূল শহরগুলোতে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষে ভরা থাকে, কাজের জন্য সবাই সাধারণত শহরের দিকেই ভিড় করে। তাই এইসব দেশগুলোতে চাকরির চেয়ে থাকার জায়গা জোগাড় করা অনেক বেশি কষ্টকর। একবেলা মোটামুটিভাবে বাইরে খেতে চাইলে ১৫ থেকে ২০ ইউরও বা তার বেশিও খরচ করতে হয়।
আশার দিক হচ্ছে উপরের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করে যদি আপনি এখানে বৈধভাবে থেকে একটা কাজের ব্যবস্থা করতে পারেন, এখানে খুব সুন্দর একটা হেলদি লাইফ লিড করতে পারবেন। যেটা আমাদের দেশ থেকে তুলনামূলকভাবে অনেক সেফ এবং সুন্দর স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন আকাশ বাতাস নেই কোন ধোয়া, ধুলা-বালি। এইখানে আপনি যে কোন জায়গায় গুগল ম্যাপ ধরে সময়মতো যেতে পারবেন, বেশি গ্রামের দিকে না হলে বাস, ট্রাম, ট্রেন সবকিছু সময় মতো পাওয়া যাবে। এইখানে আপনি সারারাত নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারবেন, সেফটি নিয়ে তেমন কোন সমস্যা নেই বললেই চলে অন্তত আমার চোখে পড়ে নাই এখন পর্যন্ত। চুরি ছিনতাইের ঘটনা প্রায় নেই বললেই চলে, কারণ এখানে কাজ করলে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করার জন্য যথেষ্ট টাকা কামানো যায়। এখানে মোটামুটি সবকিছু নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে সময়মত হয়, টাকা দিয়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা এখানে প্রায় অসম্ভব যেটা আমাদের দেশে হয়ে থাকে সাধারণত। আপনি পরিশ্রমী হলে এখানে ভালো পরিমাণে টাকা কামানো সম্ভব, যেটা আমাদের দেশি কারেন্সিতে কনভার্ট করলে ভালো এমাউন্ট হয়ে যায়। ডেলিভারি জব করে স্টুডেন্টদের মাসে দুই থেকে তিন হাজার ইউরো বা তার থেকেও অনেক বেশি আয় করতে দেখছি। তবে এই ঠান্ডার মধ্যে ডেলিভারি কাজ করাও অতটা সোজা না যতটা মুখে বলা যায়। আমাদের দেশ অনেক উষ্ণ হওয়াতে অনেকেই এখানে আসার পর ঠান্ডার জনিত সমস্যায় ভোগে।
নতুন যারা বিদেশে আসতে চাচ্ছেন তাদের জন্য সাজেশন হবে চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা গুলোকে ভালোভাবে স্টাডি করে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া।



