The Reality of Surviving in the Netherlands as a Student

Hello, my name is Joynal, and I'm a software engineer living and working in the Netherlands. With 10 years of experience under my belt, I have a passion for solving complex problems and creating innovative solutions.
When I'm not working, I like to unwind by spending time with my family, reading, and exploring new destinations. I find that travel helps broaden my perspective and provides inspiration for my work.
Thanks for taking the time to read a little about me. I hope you find my blog informative and helpful. If you have any questions or feedback, don't hesitate to reach out!
মানুষজন কেন যে একগাদা টাকা খরচ করে নেদারল্যান্ডসের মতো একটা ব্যয়বহুল দেশে স্টুডেন্ট ভিসায় আসে, আমার মাথায় ঢোকে না। এখানে স্টুডেন্ট ভিসায় আসতে গেলে মিনিমাম ২৫-৩৫ লাখ টাকা লাগে। এটা জাস্ট এক বছরের ইউনিভার্সিটির টিউশন ফি এবং থাকা-খাওয়ার খরচ। এখানে টিকে থাকতে হলে বছরে মিনিমাম ২৫ হাজার ইউরো আয় করা লাগবে। ১২-১৫ হাজার ইউরো ইউনিভার্সিটির ফি। আর প্রতি মাসে থাকা, খাওয়া ও ট্রান্সপোর্টেশনের জন্য মিনিমাম যদি ১ হাজার ইউরো ধরি, তাহলে এমনিতেই তা ২৫ হাজার ইউরো ছাড়িয়ে যাবে। যেখানে মেইন সিটিগুলোতে একটা রুম ভাড়াই ১০০০ ইউরো প্লাস!
কাজের জন্য আপনাকে অবশ্যই মেইন সিটিগুলোর আশেপাশেই থাকা লাগবে। তা না হলে কাজ শেষ করে মাঝরাতে বা ভোররাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাস স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা লাগবে বাসায় ফেরার জন্য। কাজের লোকেশন আর ইউনিভার্সিটি দুই দিকে হলে তো কথাই নেই! ট্রান্সপোর্টেশন খরচের দিক থেকে নেদারল্যান্ডস ওয়ার্ল্ডের মধ্যে সেকেন্ড মোস্ট এক্সপেন্সিভ।
ধরে নিলাম আপনি অনেক পরিশ্রমী এবং উপরের সবকিছু ম্যানেজ করে ফেললেন। স্টুডেন্টদের লিগ্যালি উইকলি ১৬ ঘণ্টার বেশি কাজ করার পারমিশন নেই। উইকলি মাত্র ১৬ ঘণ্টা কাজ করে মাসে ১০০০ ইউরোর বেশি আর্ন করা পসিবল না। ধরলাম আপনি ক্যাশে কাজ করা যায় এমন কাজও জোগাড় করে ফেললেন। অড জব করে মাসে ১৫০০-২০০০ ইউরো উঠাতে যে কারও গু বের হয়ে যাবে। ইমপসিবল কিছু না, বাট অনেক ডিফিকাল্ট। কোনো কোনো দিন ১০-১৫ ঘণ্টা কাজ করা লাগবে, আবার কোনো কোনো দিন ২-৩ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোর সময়ও পাওয়া যাবে না। সারারাত কাজ করে এসে আবার সকাল বেলা ক্লাস ধরার জন্য দৌড় মারা লাগবে।
ধরলাম আপনি এগুলোও ম্যানেজ করলেন। কাজ আর ইউনিভার্সিটি মেইনটেইন করে, রান্নাবান্না করে খেতেই তো বাকি সময় শেষ। তাহলে স্কিল বিল্ডআপ করবেন কখন, আর লোকাল ভাষা শিখবেন কখন! এখানে আইটি কোম্পানি বাদে ইংরেজির ব্যবহার প্রায় হয় না বললেই চলে। একটা জায়গায় অলমোস্ট সব লোকাল লোকজন কাজ করলে, আলটিমেটলি কমিউনিকেট করার জন্য আপনাকে লোকাল ভাষা জানা লাগবে। ইউরোপিয়ান একটা দেশের ভাষা শেখা যে কী পরিমাণ প্যারার জিনিস, সেটা নিজে না শিখতে গেলে বুঝবেন না। তবে সামহাউ লোকাল ভাষা ভালোভাবে শিখে ফেলতে পারলে, অনেক ক্ষেত্রেই চাকরির প্রতিযোগিতা ৭০-৮০% কাট করে ফেলা সম্ভব।
আর আপনি যদি চিন্তা করে থাকেন যে, কোনোমতে এসে টাকা কামানোর জন্য ক্ষেপ মারা শুরু করবেন—তাহলে ভুল ভাবছেন। ইউনিভার্সিটিতে এক সেমিস্টার ফেল মারলে ভিসা ক্যান্সেল হয়ে যাওয়ার হাই চান্স থাকে, যদি না কোনো ভ্যালিড রিজন থাকে। ইলিগ্যালি স্টে করলে কোনো সোশ্যাল বেনিফিট পাবেন না, ডক্টরের কাছে যেতে পারবেন না, কোনো সমস্যা হলে পুলিশে কমপ্লেইনও করতে পারবেন না। এবং যেকোনো সময় ধরা পড়ে দেশে ফেরত যাওয়ার রিস্ক তো সব সময় থাকেই। এখানে লিভিং খরচ যে পরিমাণ ব্যয়বহুল, তাতে ভাসমান লোকদের টিকে থাকার চান্স খুবই কম।
পড়াশোনা শেষ করে এখানে থাকতে হলে আপনাকে ভিসা স্পন্সরড কোনো জব করা লাগবে। আর যেকোনো কোম্পানি চাইলেই ভিসা স্পন্সর করতে পারে না। ভিসা স্পনসর করতে গেলে আলাদা লাইসেন্স এবং কর্মচারীর ওয়ার্ক পারমিট বাবদ কোম্পানির অনেক টাকা খরচ করতে হয়। আপনাকে পেরোলে (Payroll) অ্যাড করতে হলে অনেক লিগ্যাল বিষয় কমপ্লাই করা লাগবে। ইউরোপে এখন ভাসমান লোকের অভাব নেই, তার ওপর ইউক্রেনিয়ানরা তো আছেই। তো হুদাই আপনার পেছনে একগাদা টাকা ঢেলে কে যাবে এসব ঝামেলা পোহাতে!
আইটি সেক্টরে প্রচুর ভিসা স্পন্সরড জব আছে, তবে ওই জবগুলোর জন্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রাউডের সাথে কম্পিট করা লাগবে। অফকোর্স হাইলি স্কিলড তো হওয়া লাগবেই, নইলে ইন্টারভিউ পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা নেই। আইটি সেক্টরে জব করতে হলে হুদাই স্টুডেন্ট হিসেবে বিদেশে এসে আজাইরা খাটাখাটনির কোনো দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। দেশ থেকেই ট্রাই করা যেতে পারে।
আপনি যদি হাইলি স্কিলড না হন, তাহলে এখানে না টিকে থাকার সম্ভাবনা মোটামুটি ৯৮% বা তার বেশি। গত সাড়ে চার বছরে আমার প্রায় হাজার খানেক প্লাস স্টুডেন্টের সাথে কথা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪-৫ জন স্টুডেন্ট পড়াশোনা শেষে ভিসা স্পন্সরড জব ম্যানেজ করতে পেরেছে। কথাটা অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্যি। এখানের ল-মেকাররা এমনভাবে ফ্রেমওয়ার্ক ডিজাইন করে রাখছে, যাতে স্কিলড লোকজন ছাড়া কেউ এখানে টিকে থাকতে না পারে।
আমি আপনাকে কোনোভাবেই ডিসকারেজ করছি না, জাস্ট রিয়েলিটিটা বলছি। আমি অনেককেই দেখেছি দিনের পর দিন ঠিকমতো না ঘুমাতে পেরে কান্নাকাটি করতে। ঠান্ডার মধ্যে ডেলিভারি জব করতে গিয়ে হাতে ঘা হয়ে গেছে—এমন ঘটনাও আছে। যেটা আপনাকে বিদেশে লোক পাঠানোর এজেন্সিগুলো কখনোই বলবে না। বিদেশে যদি আপনাকে পড়তেই হয়, তাহলে এমন কোথাও যাওয়া উচিত যেখানে পড়াশোনা শেষে আপনি সামহাউ সেটেল হতে পারবেন। এত হাই ইনভেস্ট করে যদি কোথাও সেটেল না-ই হওয়া যায়, আমার মতে এত বড় ইনভেস্টমেন্ট জাস্টিফাইড না।


