The 3-Month Ticking Clock
My story of surviving a tech layoff as a skilled migrant in the Netherlands

Hello, my name is Joynal, and I'm a software engineer living and working in the Netherlands. With 10 years of experience under my belt, I have a passion for solving complex problems and creating innovative solutions.
When I'm not working, I like to unwind by spending time with my family, reading, and exploring new destinations. I find that travel helps broaden my perspective and provides inspiration for my work.
Thanks for taking the time to read a little about me. I hope you find my blog informative and helpful. If you have any questions or feedback, don't hesitate to reach out!
জুলাইর শেষ সপ্তাহে আমি চাকরি থেকে লে-অফ হই। নেদারল্যান্ডে আমি HSM (Highly skilled migrant) ভিসাতে আছি। HSM ভিসায় জব না থাকলে, জব খোজার জন্য ৩ মাস ‘জব সার্চ পিরিয়ড’ পাওয়া যায়। এবং লিগ্যালি স্টে করার জন্য তিন মাসের মধ্যে ভিসা স্পন্সরশীপ সহ কোন জব জোগাড় করা লাগবে। আরও কিছু ক্রাইটেরিয়া আছে যেমন, বয়স ৩০ বছরের বেশি হলে মিনিমাম একটা স্যালারি ক্রাইটেরিয়া পূরণ করতে হয়। সো আমি চাইলেও মিনিমাম রেঞ্জ থেকে কম টাকার চাকরিতে জয়েন করতে পারব না। আর মার্কেটের এই ভালনারেবল অবস্থায় এই সময়ের ভিতরে চাকরি ম্যানেজ করা যাবে কিনা তার কোন নিশ্চয়তা নাই। মোটামুটি একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছিলাম।
আমি পারমানেন্ট কন্ট্রাক্টে ছিলাম, এবং তিন বছর ধরে এই কোম্পানিতে কাজ করতেছি। এই রকম ভালনারেবল চাকরির বাজারে এই সময়ে জব খুঁজে পাওয়া কোয়াইট ইম্পসিবল ছিল। আমার ভিসা স্পনসরশিপ লাগবে, মিনিমাম স্যালারি ক্রাইটেরিয়া পূরণ করা লাগবে, ইংলিশ স্পিকিং কোম্পানি লাগবে এবং আরো কিছু জিনিস আছে। সব কোম্পানি ভিসা স্পনসর করতে পারেনা। ভিসা স্পনসর করার জন্য আলাদা লাইসেন্স থাকতে হয়। এইরকম একটা অবস্থায় জব প্রিপারেশনের, সিচুয়েশন হ্যান্ডেল করার জন্যেও আমার ভালো সময় দরকার। কোম্পানির সাথে সেটেলমেন্ট নেগোসিয়েশনের জন্য একজন অ্যাটর্নি হায়ার করি। সে অনেক চেষ্টার পরে মোটামুটি একটা ভালো ডিল নেগোসিয়েট করে দেয়। ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির পে-রোলে থাকতে পারবো, আর আগে জব পাইলে মুভঅন করে চলে যেতে পারব।
জব হান্টিং
২০২৫ এ আইসা চাকরির বাজার দেখে আমার মনে হইছে ইউরোপ জুড়ে যেন দুর্ভিক্ষ পইড়া গেছে। আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে তো তাও দু-চারটা জব পোস্ট দেখছি, বছরের শুরুতে মার্কেটে সম্ভবত তেমন কোন জব-ই ছিল না। কিছু স্ক্যাম জব পোস্ট জাস্ট কোম্পানিগুলা শো-অফের জন্য করে থাকে, এটা কম বেশি সবাই করে। এই বছরের লিঙ্কডইন ইউরোপ জব মার্কেটের ডাটা ঘাঁটলেই একটা আইডিয়া পেয়ে যাবেন। আমি ফুলস্ট্যাক ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করি, Node.js, TypeScript দিয়ে। নেদারল্যান্ডে আমার স্কিল এবং ভিসা ক্রাইটেরিয়ার সাথে মিলে এই রকম জব খুঁজে পাইছি হাতে গোনা কয়েকটা। একটা জব পোস্টে করার সাথে সাথে ১০০+ ক্যান্ডিডেট আপ্লাই করে ফেলে। জব মার্কেটের এমন অবস্থা হইছে যে বহু মিডিয়েটর রোলের জন্য ভিপি/ডিরেক্টর টাইটেলের লোকজনও আপ্লাই করছে! বিভিন্ন কোম্পানি থেকে লে-অফ হওয়া লোকজন মাসের পর মাস বসে রইছে। মার্কেটে ডিমান্ডের থেকে সাপ্লাই অনেক বেশি। অনেক কোম্পানি লে-অফ করছে। ছোট বড় কোম্পানিগুলা ১০ জন থেকে শুরু কইরা ১০০০+ লোকজন পর্যন্ত লে-অফ করছে, তাইলে বুঝেন কি অবস্থা।
ডাচ মার্কেটে আমি চার বছর যাবত কাজ করি আগে কখনোই এইরকম বাজে অবস্থা দেখি নাই। ২০২৩ সাল পর্যন্ত এইখানে চাকরির বাজার মোটামুটি রমরমা অবস্থা ছিল। মার্কেটে প্রচুর টাকা ফ্লো হইতেছিল, মানুষজন ধুমায়ে ইনভেস্ট করতেছিল। লিঙ্কডইন প্রতিদিন অন্তত ৪/৫ টা নক পাইতাম বিভিন্ন পজিশনের জন্য। মানুষজন জব অফার পাইলে ইচ্ছামত স্যালারি হাকাইত।
এখন আমার স্কিলের সাথে মিলে এই রকম যদি ১০ টা জব খুঁজে পাই এর মধ্যে অন্তত ৫ টাতে ম্যান্ডেটরি লোকাল ভাষা জানা লাগবে, যেটা আগে এই লেভেলে ছিল না। বাকি ৫ টার মধ্যে ৩ টা তে ভিসা স্পন্সর করতে পারবে না। বাকি দুইটার মধ্যে একটাতে স্যালারি রেঞ্জ কম, ভিসার মিনিমাম স্যালারি রেঞ্জ মিট করে না। বাকি একটাতে আপ্লাই করতে যেয়ে দেখি অলরেডি ১০০+ লোকজন আপ্লাই করে বসে রইছে। লিঙ্কডইন প্রিমিয়ামে ১০০ জন পর্যন্তই দেখা যায়, ১০০০ জনও আপ্লাই করতে পারে। এখন এই দুই একটাতে আপ্লাই করেও তেমন কোন রেসপন্স পাচ্ছিলাম না। আমার মেইন স্কিল সেটের বাইরে যেয়েও অনেক জবে আপ্লাই করসিলাম যেমনঃ python, golang, C# রোলে। আগে ৫ টা স্কিল চাইলে ৩ টা মিললে, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং স্কিল, নলেজ ভালো হলে নিয়ে নিত। এখন পাঁচটার মধ্যে পাঁচটা তো জানা লাগবেই আরও অনেক কিছু এক্সট্রা জানা লাগবে। নতুন করে AI হাইপ তুলে মার্কেটের ডিমান্ড চেঞ্জ করে দিসে। আপনি যেই স্কিলসেট বা রোলেই কাজ করেন না কেন AI ইন্টিগ্রেশন নিয়ে ভালো ধারণা থাকা লাগবে। কিছু কোম্পানি তো কোন কারণ ছাড়াই মার্কেট হাইপ ফলো করার জন্য AI agent বানানো শুরু করে দিছে। সো আপনার রিলেভেন্ট কিছু নলেজ/এক্সপেরিয়েন্স থাকা অনেক জরুরি হয়ে পড়ছে।
ইউরোপে অনেক এক্সপেন্সিভ এনার্জি/ম্যাটেরিয়াল কস্ট, স্ট্রিক্ট কমপ্লায়েন্স/রেগুলেশনের কারণে এইখানে প্রোডাকশন কস্ট অনেক বেশি। থ্রিডি প্রিন্টার তৈরি করে এমন একটা কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিসিলাম। রিক্রুটারকে জিজ্ঞাসা করলাম তোমার কোম্পানির সেলস কেমন, সে জানাল লাস্ট দুই বছর কোম্পানির কোন প্রফিট নাই। চাইনিজ প্রোডাক্টের সাথে পাল্লা দিয়ে কুলাইতে পারতেছে না। চাইনিজরা প্রায় অর্ধেক বা তার কম দামে সেম কোয়ালিটির প্রোডাক্ট দিতেছে।
ই/উ/ক্রে/নী/য় এফেক্টঃ এদের কোন কাজের অভিজ্ঞতা লাগে না, ইন্টারভিউ ও লাগে না! এরা যদি রিলেভেন্ট ফিল্ডে সারাজীবন নাও কাজ করে তারপরও এরা কোন অফিসে সিনিয়র টাইটেল পেয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নাই। কিছু কিছু কোম্পানিতে এরা পুরা গ্যাং বানায়ে ফেলছে। ওরা নিজেরা নিজেদেরকে কোন ইন্টারভিউ ছাড়া ডিরেক্ট হায়ার করে ফেলে।
সব মিলায়ে ইউরোপের জব মার্কেট এখন আগের মত রমরমা অবস্থানে নাই।
ইন্টারভিউ প্রিপারেশন
এই সিজনে ইন্টারভিউ দিতে যেয়ে প্রচুর পরিমানে প্যারা খেয়ে গেছি। ৬/৭ টা ইন্টারভিউ দেয়ার পরেও কোন কিছু ক্র্যাক করতে পারতেছিলাম না। টেকনিক্যাল ইন্টারভিউ পার করে, AI ইন্টারভিউ নাইলে প্রোডাক্ট ইন্টারভিউতে আটাকায়ে যাইতেছিলাম। আগেই বলছি, প্রত্যেকটা কোম্পানি এক্সপেক্টেশন বার অনেক উপরে সেট করে দিছে। কারন বিভিন্ন জায়গায় লে-অফ হওয়ার কারণে কম টাকায় অনেক স্কিলড লোকজন পাইতেছিল তারা।
লে-ওফের পর প্রথম দুই সপ্তাহ আমি ইউটিউবে hellointerview চ্যানেলের কিছু ফ্রি সিস্টেম ডিজাইন ইন্টারভিউর টিউটোরিয়াল দেখে কাটাইছিলাম। আর ওইগুলা দেইখা excalidraw তে প্র্যাকটিস করসিলাম। এই সময়ে আমার যেটা করতে ভাল্লাগে ওইটাই করতেছিলাম যাতে ব্রেনের উপর চাপ না পড়ে। অপেক্ষা করতেছিলাম আমার কনফিডেন্স ঠিক হওয়ার। কনফিডেন্স একটু আপ হওয়ার পর ধুমায়ে কোডিং প্র্যাকটিস করছি। রিয়াক্ট, নোড, টাইপস্ক্রিপ্ট, পাইথন। আমার কাছে বেস্ট মনে হইছে ছোট ছোট অ্যাপ বা অ্যাপের অংশ বিশেষ বানানো। কারণ ইন্টারভিউতে ছোট ছোট অ্যাপের অংশ বিশেষ লাইভ কোডিং করতে দেয়। কোডিংয়ের প্র্যাকটিসের জন্য কিছু ছোট ছোট অ্যাপ স্ক্রেচ থেকে কোড করছি বিভিন্ন কনসেপ্ট গুলা রিভিউ করার জন্য। যেমনঃ প্রোডাক্ট লিস্ট/কার্ট/সার্চ সহ ইকমার্স ওয়েব অ্যাপ, শিপিং কস্ট ক্যালকুলেশন ওয়েব অ্যাপ, চ্যাটিং অ্যাপ। এইগুলা আমার কনসেপ্ট গুলা রিভিউ এবং লাইভ কোডিং মক প্র্যাকটিসের জন্য যতটুকু দরকার ততটুকুই করছিলাম।
আমি যেই কোম্পানি গুলা টার্গেট করতেছিলাম এরা অ্যাপ্লিকেশন কোডিং করতে দিত এবং সিস্টেম ডিজাইনের বিভিন্ন কেইস দিত সমাধান করার জন্য। অ্যাপ্লিকেশন কেস স্টাডি ফোকাসড ইন্টারভিউ। তাই লিটকোড টাইপের প্রবলেম সলভ করার জন্য প্রিপারেশন নেই নাই। আগে কোম্পানি গুলা হ্যাকার র্যাঙ্ক বা লিটকোডের প্রবলেম দিত সলভ করার জন্য। এখন বড় কোম্পানিগুলা বাদে বেশিরভাগ কোম্পানিই এই স্ট্র্যাটেজি থেকে মনে হয় সরে আসছে। আপনি যদি FAANG র মত কোম্পানি টার্গেট করেন তাহলে Blind 75 অথবা neetcode র মত প্রবলেম লিস্ট ফলো করে প্র্যাকটিস করা যেতে পারে।
অনেক কোম্পানিতে কোডিং, সিস্টেম ডিজাইনের পাশাপাশি AI-এর জন্য আলাদা ইন্টারভিউ থাকে। এমনকি শুধু AI-এর জন্য একটা কোম্পানিতে দুইটা ইন্টারভিউও দিছি। একটা AI এজেন্ট বানাতে হলে LLM মডেলের সাথে কিভাবে কাজ করেতে হবে বা যেসব টুলস লাগে সেইগুলা নিয়ে ধারণা রাখা। যেমনঃ planner, MCP, RAG, vector database, Quantizing, fine tuning। এমন না যে আপনাকে মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ার হওয়া লাগবে। একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসাবে LLM model কে নন ডিটারমিনেস্টিক টুল হিসাবে ব্যবহার করে কিভাবে বিভিন্ন ইউজফুল জিনিসপত্র বানানো যায় বা এই সিস্টেম গুলাকে কিভাবে অপ্টিমাইজ/স্কেল করা যায়, এইগুলা নিয়ে আইডিয়া থাকা লাগবে।
টেক ইন্টারভিউ তে ভালো করতে হলে লাইভ কোডিং এবং প্রেজেন্টেশনে এ নিজেকে কমফোর্টেবল বানায়ে ফেলতে হবে। যা করতেছেন বা করবেন সেটা ইন্টারভিউয়ার কে সুন্দর করে বুঝায়ে বলতে হবে, মানে ভালভাবে কমিউনিকেট করতে হবে আরকি। আমার ক্ষেত্রে যেটা ভালো কাজ করে সেটা হচ্ছে আমি যেকোন জিনিস যেভাবে আমার কলিগ, বন্ধু বা ছোট ভাইদের বুঝাই ঠিক ওই ন্যাচারাল অ্যাপ্রোচটাই ফলো করি। আলাদা কিছু করি না। যেমন আমার কলিগ যদি আমার থিওরিটিক্যাল কথাবার্তা না বুঝে আমি খাতা-কলমে বা হোয়াইটবোর্ডে একে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করি। যদি কোডিং রিলেটেড কিছু হয় তাহলে ব্রাউজারের কনসোল খুলে বা টার্মিনাল খুলে কুইকলি আমার আইডিয়াটা সিম্পলভাবে ইমপ্লিমেন্ট করে দেখানোর চেষ্টা করি। স্ক্রিন শেয়ার করে কাউরে কিছু এক্সপ্লেইন করতে এমেনিতেই আমার ভাল্লাগে। আগের কোম্পানিতে প্রায় সপ্তাহেই উইকলি আপডেট ডেমো দিতাম, একটা অভ্যাস হয়ে গেছিল।
প্রত্যেকটা জবের জন্য আলাদা আলাদা সিভি বানান এবং কোন কোম্পানিতে কি সিভি সাবমিট করতেছেন এইটা ট্র্যাক রাখার জন্য একটা ফোল্ডার করে রাইখা দেন, পরে কাজে লাগবে। AI ইন্টিগ্রেশনের কারণে ATS গুলা সিভির সাথে জব ডেসক্রিপশনের কিওয়ার্ডের মিল না থাকলে সোজা অটো রিজেক্ট করে দেয়। রিক্রুটার পর্যন্ত পৌঁছায় না। এইটা পার করা কঠিন কিছু না, কিন্তু এই বিষয়টা মাথায় রাখা লাগবে। রেসপন্স নাই পাইলে হায়ারিং ম্যানেজারকে ডিরেক্ট নক দিতে পারেন, যে তোমার এইখানে এই রোলের জন্য আপ্লাই করসিলাম কিন্তু কোন রেসপন্স পাচ্ছি না। পার্সোনালি নক দিলে এইটা ওরা অনেক গুরুত্ব সহকারে নেয়। ওদের অনেক সিভি/ইন্টারভিউ প্রসেস করা লাগে, ওরা অনেক বিজি থাকে তাই অনেক সময় রেসপন্স করতে ভুলে যায়।
সিস্টেম ডিজাইন, AI প্র্যাকটিস করার সময় আমার মনে হাজার হাজার প্রশ্ন আসছিল, যেটা মাথায় আসত গুগল জেমিনাই কে প্রশ্ন করতাম আর আমার চিন্তাভাবনা গুলা যাচাই করতাম। ইন্টারভিউ প্রিপারেশনের জন্য এইগুলা খুব ভালো টুল।
ফিউচার
নন ইংলিশ কান্ট্রিতে চ্যালেঞ্জ হল লোকাল ভাষা শিখা। লোকাল ভাষা আয়ত্ত করতে পারলে চাকরির ক্ষেত্রে ৭০% বা তার বেশি প্রতিযোগিতা কাট করে ফলা সম্ভব। ইউরোপীয় দেশের ভাষা গুলা রিলেটিভলি অনেক কঠিন। এইগুলা শিখে ফ্লুয়েন্সি আনা অনেক সময়ের ব্যাপার। অনেক টাইম ইনভেস্ট করা লাগে। আমরা যারা টেকনিক্যাল সেক্টরে কাজ করি আমাদের এমনিতেই জব/স্কিল রিলেটেড অনেক পড়াশোনা করা লাগে। সব করে একটা নন ইংলিশ লোকাল ভাষা শিখার জন্য সময় এবং মোটিভেশন থাকে না। সমস্যা হচ্ছে কস্ট করে শিখলেও এইসব লোকাল ভাষা ইংলিশের মত সব জায়গায় ব্যবহার করা যায় না।
কিছু প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়া, শ্রীলঙ্কাতে ব্রাঞ্চ খুলতেছে সস্তায় লোকাল মার্কেট থেকে লোকজন নেয়ার জন্য। এশিয়ান দেশগুলাতে লেবার-ল স্ট্রং না, যা মন চায় তাই করতে পারে। ইউরোপে লোকজন হায়ার করলে এইখানের লেবার-ল স্ট্রিক্টলি ফলো করা লাগে, যার কারণে কোম্পানিগুলা মন চাইলে হুটহাট করে কাউকে বাদ দিতে পারে না। অপর দিকে ইন্ডিয়া বা শ্রীলঙ্কাতে একদিনের নোটিসে সবাইকে চাইলে ছাটাই করে দেয়া যায়।
ইউরোপের অন্যান্য দেশের মত নেদারল্যান্ডেও প্রচুর অ্যাসাইলাম সিকারে ভরে গেছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ল-এর কারণে এদের বের করে ও দিতে পারতেছে না। ২০২৪ সালের ডাটা অনুযায়ী এইখানে স্কিলড মানুষ আসছে ১৬০০০ এর ও কম আর অ্যাসাইলাম সিকার আসছে ৫০০০০ প্লাস। এদের বেশিরভাগ ইউক্রেনিয়ান এবং সিরিয়ান। বহিরাগতদের আসার জোয়ার ঠেকাতে এইখানে সিটিজেনশিপ পাওয়ার প্রসেস অনেক কঠিন করার জন্য উঠেপড়ে লাগছে। সিটিজেনশিপ প্রসেস পাঁচ বছর থেকে ১০ বছর করার জন্য ওপেন প্রপোজাল আছে। এই জিনিস স্কিলড এক্সপার্টদেরকেও এফেক্ট করতেছে। আমরা তো হাই ট্যাক্স দেই আমাদের তো অ্যাসাইলাম সিকারদের মত ট্রিট করা উচিত না। কোম্পানিগুল এখন তাদের পলিসি চেঞ্জ করে জবে লোকাল, ইউরোপীয় এবং ই/উ/ক্রে/নী/য়দের আগে প্রায়োরিটি দিয়ে তারপর ইন্টারন্যাশনাল এক্সপার্টদের সুযোগ দেয়।
নেদারল্যান্ডে ৩৫-৫০% পর্যন্ত ইনকাম ট্যাক্স দেয়া লাগে, বোনাসের উপর ৬৫% ট্যাক্স দেয়া লাগে। বাকি যা কামাবেন তার বেশিরভাগ টাকা এইখানে থাকা খাওয়ার জন্য খরচ করে ফেলা লাগবে। এত হাই ট্যাক্স দিয়েও আপনার ইনভেস্টমেন্টের কোন নিশ্চয়তা নাই। আমি কোন কিছুতেই ডিমোটিভেটেড করতেছিনা, আপনার রিলোকেট করার প্লান থাকলে জাস্ট সবকিছু একটু ভালভাবে স্টাডি কইরা হিসাব মিলায়ে নিয়েন।
কিছু পরামর্শ
আল্লাহ্ আপনার রিজিকে যা রাখছে তাই পাবেন, কেউ ঠেকাতে পারবে না। আর আপনার রিজিকে না থাকলে সারা দুনিয়া মিলে চেষ্টা করেও আপনার জন্য কিছু করতে পারবেনা।
সবসময় নেগেটিভ কথা বলা থেকে বিরত থাকবেন, আল্লাহ কখন কোন কথা কবুল করে ফেলে বলা যায়না। সবসময় পজিটিভ কথা বলবেন এবং পজিটিভ চিন্তাভাবনা করবেন।
নিজের উপর ডাউট করা যাবে না, সময়টা জাস্ট খারাপ।
পার্মানেন্ট জব বলে কিছু নাই। আমরা যারা স্কিলড বেজড কাজ করি সব সময় নিজেরে রানিং রাখা উচিত। স্কিল আপটুডেট রাখা উচিত, পড়াশোনায় টাইম ইনভেস্ট করা উচিত।
কোম্পানি কখনও কারো পরিবার না। পরিবার কখনও বাজে সময়ে ফ্যামিলি মেম্বারদের ফেলে দেয় না। এইসব লুতুপুতু চিন্তাভাবনা থেকে বের হয়ে আসা লাগবে। প্রফেশনাল কাজের জায়গায় প্রফেশনালি বিহেভ করতে হবে। কোম্পানির যদি আপনাকে দরকার না পড়ে একদিনও অতিরিক্ত রাখবে না।
তেমনি কোম্পানি যদি ইকোনমিক্যালি ভালো না করে জাস্ট মুভ টু এনাদার জব, ডোন্ট ইভেন থিঙ্ক টুয়াইস। বাংলাদেশে থাকতে বেশি লয়ালিটি দেখাইতে যেয়ে একটা কোম্পানি তিন মাস স্যালারি ছাড়া কাজ করছি। আমার প্রতি কোন কার্টেসি থাকা তো অনেক দূরের ব্যাপার আমাকে যতভাবে হয়রানি করা যায় সব করছে।
স্কিলসেট মিললে ২/৪ মাস আগে পোস্টে করা জবেও আপ্লাই করা যেতে পারে, ক্ষতি তো নাই। অনেক সময় কোম্পানি মনমত লোক পায় না তাই হায়ারিং পজ করে রাখে। পুরান জব পোস্টে আপ্লাই করে আমি ২/৩ টা ইন্টারভিউ কল পাইসিলাম। লিঙ্কডইন প্রচুর স্ক্যাম জব পোস্টে ভরে গেছে মানুষের ডাটা চুরি করার জন্য। সিভি সাবমিট করার আগে ভালভাবে যাচাই-বাছাই করে নিবেন।


