স্ট্রাগল স্টোরি - ১

Hello, my name is Joynal, and I'm a software engineer living and working in the Netherlands. With 10 years of experience under my belt, I have a passion for solving complex problems and creating innovative solutions.
When I'm not working, I like to unwind by spending time with my family, reading, and exploring new destinations. I find that travel helps broaden my perspective and provides inspiration for my work.
Thanks for taking the time to read a little about me. I hope you find my blog informative and helpful. If you have any questions or feedback, don't hesitate to reach out!
২০১৩ সাল পুরো বছর টিউশনির টাকা জমিয়ে একটা এলইডি মনিটর এবং ইন্টারনেট মডেম কিনি। ২৬০০ টাকা দামের সিআরটি মনিটরে তিন বছর কাজ করে আমার চোখে বেশ সমস্যা দেখা দিচ্ছিল, তাই একটা এলইডি মনিটর কেনার জন্য খুব তাড়া অনুভব করতেছিলাম। আমার সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল বাসায় ইন্টারনেটের কোন ব্যবস্থা ছিল না, এইদিকে মোবাইল ডাটার দাম ও অনেক বেশি ছিল। ২ জিবি ডাটার দাম ছিল ৩০০ টাকার মত ৩০ দিনের জন্য, আর দশ জিবি ছিল ৫০০ টাকার বেশি। তখন প্রতি মাসে ৫০০ টাকা ইন্টারনেটের জন্য ব্যয় করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। বিভিন্ন সফটওয়্যার এবং টুলস এর জন্য ইন্টারনেট কানেকশন অপরিহার্য ছিল, যদিও বেশিরভাগ সময় আমি বিভিন্ন সফটওয়্যার ডাউনলোড করে এনে ডেক্সটপে ইন্সটল করতাম। কিন্তু সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের জন্য ইন্টারনেট কতটা গুরুত্বপূর্ণ এটা যারা কাজ করে তারা বুঝবে।
ভার্সিটিতে ক্লাস না থাকলেও প্রায় সময় আমি যেয়ে হাজির হতাম আমাদের কম্পিউটার ল্যাব ব্যবহার করার জন্য, এমনকি হরতালের দিনেও। কম্পিউটার ল্যাবে দুর্বল হলেও ইন্টারনেটর ব্যবস্থা ছিল। আমাদের কম্পিউটার ডিপার্টমেন্টের হেড এটা একদমই পছন্দ করত না, প্রায় সময়ই আমাকে অপমান করে বের করে দিত। আমি বরাবরই প্রতিবাদ জানাতাম যে প্রতি মাসে আমি ৫০০ টাকা করে কম্পিউটার ল্যাবের জন্য দেই, আপনারা ল্যাব ব্যবহার করতে না দিলে দয়া করে টাকা নিবেন না। এই টাকা দিয়ে আমি বাসায় খুব ভালোভাবে ইন্টারনেট চালাতে পারবো, কিন্তু কে শোনে কার কথা!
ভার্সিটিতে প্রতি মাসে চার হাজার টাকা করে দেওয়া লাগতো, আব্বুর কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নিতাম। বাকি এক হাজার টাকায় এক মাসের ভাড়া এবং হাত খরচ অসম্ভব ছিল। দেখা যেত মাসের শেষ দিকে ভাড়ার টাকা নাই। আব্বু যে দয়া করে ভার্সিটির খরচ দিত এটাতেই খুশি ছিলাম অনেকে তো তাও পায়না। নিজেকে অনেক পুশ করে ২০১৪ সাল থেকে ইন্টারনেটের জন্য প্রতি মাসে পাঁচশ টাকা বরাদ্দ করলাম। শুরুর দিকে ২ জিবি ডাটা দিয়ে ৩০ দিন চলতাম। কোন ভিডিও দেখতাম না, শুধুমাত্র ব্রাউজিং করতাম।
একটা ল্যাপটপের অভাবে আমি এবং আমার বন্ধু সাব্বির ভার্সিটিতে কোন সময় একসাথে কাজ করতে পারি নাই আমাদের প্রজেক্টে। নতুন শিক্ষানুবেশ হওয়ায় ওই সময় বাসায় থেকে কিভাবে রিমোটলি কোলাবরেটলি কাজ করা যায় আমরা সেটা অতো বুঝতাম না। ওই সময় সাব্বির খুবই আফসোস করত যে যাদের কোন প্রয়োজন নাই তাদের কোন কিছুর অভাব নাই, আর আমাদের একটা ল্যাপটপ প্রয়োজন কাজ করার জন্য কিন্তু সেটারই কোন ব্যবস্থা নাই। যদিও অনেক প্রতিবন্ধকতা ছিল তারপরও দুজনেই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম ভালো কিছু হবে।
সম্পূর্ণ দিন ক্লাস থাকলে বেশিরভাগ সময় টিফিন খাওয়ার জন্য অতিরিক্ত টাকা থাকতো না। কারণ টিফিনের জন্য খরচ করে ফেললে মাসের শেষের দিকে গাড়ি ভাড়ার টাকা থাকতো না। ভার্সিটিতে পড়াকালীন আমার জাতীয় খাবার ছিল ঝাল মুড়ি, ১০ টাকার ঝাল মুড়ি খেয়ে পেট ভরে ফেলা যেত। মাঝে মাঝে ভালো না লাগলে রাস্তার পাশে ভ্যান থেকে পরোটা এবং চিকেন চাপ খাইতাম।



