# বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তুতি নে‌বেন কীভাবে?

যারা নতুন বিদেশে আসবেন তাদের জন্য শপিং এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আমার ব্যক্তিগত কিছু টিপস:

\- রান্না করার জন্য হাড়ি, পাতিল, প্যান, থালা, বাসন, প্লাস্টিক ফুডবক্স লাগেজ ভরে আনা লাগবেনা, এইখানে অ্যাকশন নামে একটা দোকান আছে এইখানে এগুলোর দাম আর বাংলাদেশের দাম প্রায় সমান। অ্যাকশনে তুলনামূলকভাবে সস্তায় প্রচুর গৃহস্থলীয় জিনিসপত্র পাওয়া যায়। আমি এসব জিনিসপত্র দেশ থেকে লাগেজ ভরে এনে ৭-৮ কেজি মূল্যবান ব্যাগেজ ওয়েট নষ্ট করেছি।

\- বাংলাদেশের কাপড়ের কোয়ালিটি পৃথিবী সেরা, এটা আপনি দেশের বাইরে না আসলে কখনোই বুঝবেন না। প্রয়োজনীয় কাপড় চোপড় যা লাগে সাথে নিয়ে আসবেন। এমন না যে এখানে ভালো কোয়ালিটির কাপড় পাওয়া যায় না, অবশ্যই পাওয়া যায় কিন্তু দাম অনেক বেশি। একটা ভালো কোয়ালিটির ফেদার জ্যাকেট অথবা জিন্স প্যান্টের দাম ১০০ থেকে ২০০ ইউরো।

\- বস্তার মতো ভারী জ্যাকেট না কিনে দুই তিনটা ভালো কোয়ালিটির ফেদার জেকেট কিনে নিতে পারেন, যাতে পালটিয়ে পালটিয়ে পরা যায়। নিউ মার্কেটে পাবেন, হাজার পনেরশো থেকে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা হবে। ঠান্ডা থেকে বাঁচার জন্য জামা কাপড় মাল্টিপল লেয়ারিং করে পড়া যেতে পারে, এতে টেম্পারেচার ভারি জ্যাকেট থেকেও বেশি হোল্ড করে।

\- হালকা, ভারি দুই ধরনের ফুলহাতা গেঞ্জি নিয়ে আসবেন বেশি করে।

\- ছোট বা মাঝারি সাইজের দুই তিনটা লক নিয়ে আসতে পারেন। ব্যাগের চেন লক করা থেকে শুরু করে হোস্টেলের লকার যাতে লক করা যায়।

\- যাদের উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যা আছে, অবশ্যই সাথে প্রয়োজনীয় ঔষধ এবং রক্তচাপ মাপার মেশিন  নিয়ে আসবেন। এখানে সেটেল হয়ে এই মেশিনটা কিনতে গেলে একটু সময় লাগবে।

\- এয়ারপোর্ট থেকেই সিম কার্ড এবং ট্রাভেল কার্ড কিনে নিতে পারেন।

\- এখানে মোটামুটি সবজায়গায় ট্যাপের পানি খেতে পারবেন নিঃসন্দেহে।

\- অস্থায়ীভাবে হোটেল বা হোস্টেল যেখানেই উঠেন না কেন রিসিপশন থেকে পানি বা খাবার কিনতে যাবেন না, প্রচুর দাম রাখে। পৌঁছানোর পর আমি না বুঝে হোস্টেল থেকে ৫০০ এমএল পানির  বোতল কিনসি আড়াই ইউরো দিয়ে দিয়ে, অথচ এই দাম দিয়ে পাঁচটা দেড় লিটারের পানির বোতল কিনা যাবে। কেনাকাটা করার জন্য কাছাকাছি কোন গ্রোসারি শপ এ চলে যান।

\- হোটেল হোস্টেল যেখানেই থাকেন না কেন, সব জায়গায় রান্নাঘর থাকার কথা। এবং রান্নাঘরে একাধিক মানুষ রান্নাবান্না করার জন্য ছুরি চাকু থেকে শুরু করে হাড়ি পাতিল সব ধরনের জিনিসপত্র থাকে। তাই মন চাইলে বাজার করে রান্নাবান্না করে খাওয়া শুরু করে দিতে পারেন।

\- কিছু ইনস্ট্যান্ট নুডুলস এবং চিড়া সাথে আনতে পারেন, যাতে অল্প সময়ে প্রস্তুত করে খাওয়া যায়।

\- প্লেন জার্নি করার সময় মুখের ত্বক খুব শুষ্ক হয়ে যায়, এ জন্য ভালো কোন মশ্চারাইজার ক্রিম সাথে রাখতে পারেন। প্রচুর পানির তৃষ্ণা পেতে পারে এবং গলা শুকিয়ে যেতে পারে, জন্য একটা মাঝারি সাইজের পানির বোতল সাথে রাখবেন।

\- ১-২ টা ছাতা, লাইটওয়েট রেন জাকেট অবশ্যই সাথে করে নিয়ে আসবেন। এখানে যে কোন সময় হঠাৎ করেই বৃষ্টি শুরু হতে পারে।

\- যারা বই পড়েন সাথে করে কিছু বইপত্র নিয়ে আসতে পারেন, এইখান থেকে বাংলা বই কিনতে গেলে অনেক খরচ পড়ে যায়।

নতুন কিছু মাথায় আসলে এই লেখাটার সাথে সংযুক্ত করে দিব।
